মায়ের কোলে ফিরল আলিফ ও গালিব

পারিবারিক কলহের জের ধরে দাদীর দায়ের করা মিথ্যে মামলায় মা কারাগারে। একই মামলায় বাবা গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে আত্মগোপনে, দাদী ও ফুফু শিশু সন্তানদের ঘর থেকে বের করে দেয়ায় বাধ্য হয়ে দুগ্ধপোষ্য শিশুভ্রাতাকে সঙ্গে নিয়ে মায়ের মুক্তি চেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্তরে অবস্হান কর্মসূচি করে ১২ বছরের অসহায় শিশু আলিফ।

রবিবার (১৮ জুলাই) মায়ের জামিন হওয়ার আগের রাতে সোহেল হাফিজের আশ্রয়ে থাকা এই দুই সহোদরকে পৃথক করে বরগুনা জেলা প্রশাসন। সোহেল হাফিজের বাসা থেকে দুগ্ধপোষ্য শিশু গালিবকে পাঠানো হয় বরিশালের আগৈলঝাড়ার ছোটমনি শিশু নিবাসে। আর আলিফকে পাঠানো হয় বরগুনার শেখ রাসেল শিশু কিশোর পুনর্বাসন কেন্দ্রে। সোমবার (১৯ জুলাই) সকালে কারাবন্দি ওই দুই শিশুর মা আনিতা জামানের জামিন মঞ্জুর করেন বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। পরে বিকেল ৪টার দিকে বরগুনা জেলা কারাগার থেকে কারামুক্ত হন তিনি।

আনিতা জামান যখন কারামুক্ত হন তখন তার দুই শিশু সন্তান বরিশাল ও বরগুনার ভিন্ন দুই কারাগারে বন্দি। এরপর কারামুক্ত হয়েই তিনি বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে দুই শিশু সন্তানকে ফিরে পেতে আকুতি জানান। বরিশালে থাকা দুগ্ধপোষ্য শিশু গালিবের সঙ্গে তার মায়ের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন একজন সাংবাদিক। ফোনের ওপারে থাকা শিশু গালিবের আর্তচিৎকারের সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার (২০ জুলাই) বিকেলে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেই শিশু সন্তানকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয় প্রশাসন।এর আগে বরগুনার শেখ রাসেল শিশু কিশোর পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে গালিবকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় তার মা আনিতা জামানের কাছে।

গেল বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) থেকে দাদীর করা মামলায় চৌদ্দ শিকের ভেতর আটকে আছে মা, সাথে নেই বাবাও। পারিবারিক কলহের জের ধরে বরগুনায় দাদীর দায়ের করা মিথ্যে মামলায় মা এখনো কারাগারে। একই মামলায় বাবা গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে আত্মগোপনে। দাদী ও ফুফু শিশু সন্তানদের ঘর থেকে বের করে দেয়ায় বাধ্য হয়ে দুগ্ধপোষ্য শিশুভ্রাতাকে সঙ্গে নিয়ে মায়ের মুক্তি চেয়ে আজ জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্তরে অবস্হান কর্মসূচি করে ১২ বছরের অসহায় শিশু আলিফ।

শনিবার (১৭ জুলাই) সকালে শহরের টাউনহল এলাকার অগ্নিঝরা একাত্তরের পাদদেশে অসহায় দুই শিশুর এ অবস্থান কর্মসূচি দেখতে ভিড় জমান উৎসুক জনতা। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। ভুক্তভোগী শিশু আলিফের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাবার চাকুরির সুবাদে তারা গাজিপুর জেলায় বসবাস করে আসছিল। সে সেখানকার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে একটি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে মেধাবী শিক্ষার্থী আলিফ ইংল্যান্ডে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছে। তার ভিসাও প্রস্তুত। করোনার কারণে তার ইংল্যান্ড যাওয়া বিলম্বিত হয়েছে।অথচ এমন একটি সময়ে তার দাদীর দায়ের করা মিথ্যে মামলায় কারাগারে রয়েছে তাদের মা আনিতা জামান। শিশু আলিফ আরও জানায়, তার বয়স এখন ১২ বছর। অথচ মিথ্যে মামলায় তার বয়স ১৮ বছর দেখিয়ে তাকেও আসামী করা হয়েছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *