খালেদা-তারেকের কথা বিএনপিতে চলবে না

বিএনপিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কথায় সব কিছু চলবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলটির বিদ্রোহী নেতা ও দলের পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা কামরুল হাসান নাসিম। রোববার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এখন বিএনপিতে জিয়ার মতো কেউ নেই। জোর করে ত্রিশ বছরের মত অধিক সময় নিয়ে একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি ও গৃহিণী বেগম খালেদা জিয়াকে বদু কাকারা ( বি চৌধুরী- কে এম ওবায়েদ) কিসের জন্য দলের চেয়ারপার্সন করেছিলেন, তা আমি আবিষ্কার করেছি। তবে তা মুখে বলতে পারব না। কিন্তু সময় বদলিয়েছে। আমারও আমাদের জন্ম হয়েছে। সবকিছু মা ও পুত্রের কথায় চলবে না।

কামরুল হাসান নাসিম বলেন, আমার চেয়ে যোগ্যতা সম্পন্ন নেতা যদি তারেক রহমান হয়ে থাকেন তাকে বড় সালাম দিতে কার্পণ্য কোথায়! কিন্তু দুঃখিত, তা ভেবে দেখাও পাপ ! আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি, এই দেশের মানুষ কিভাবে এদেরকে নেতা বানায় ? হ্যাঁ, ওই জিয়াকে ভালবেসেই হয়তো। আজ পর্যন্ত এই তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করতে পারল না, সে কি দেশ পরিচালনা করবে? হাওয়া ভবন হবে, আর সে ভবনে বলিউড কুইনেরা আসবে, দেশের কিছু হবে না।

তিনি বলেন, বিএনপিতে জিয়াকে সামনে রেখে রাজনীতি করতে হবে। তবে নেতৃত্ব নির্ধারিত রাখার সুযোগ নেই। ত্রিশ বছরের অধিক সময় নিয়ে বেগম জিয়াই দলের ঐক্যের প্রতীক ছিলেন। তাকে রেখেই পুনর্গঠন করতে হবে। তবে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে দেয়া যাবে না। তার পুত্র কিংবা পারিবারিক দিকটাকে বড় করে দেখার সুযোগ থাকলেও তাদের কোয়ালিটিটাও তো থাকতে হবে!

দলীয় বিপ্লব করা হবে জানিয়ে নাসিম বলেন, দলীয় বিপ্লব ২০২১ সালের মধ্যেই হবে। এই বছরের আগস্ট মাস হতে ডিসেম্বরের মধ্যে দলের নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনেই বসবে প্রতীকী উচ্চ আদালত। আর কোন মহড়া নয়। কোন একটি সকালে আমি তা করে দেখাব। রাতের আঁধারে নয়। আর দলের ক্রেডিবল কাউন্সিল করা হবে একই সময়ে। বিপ্লবের মাহেন্দ্রক্ষণে সেই কাউন্সিল করা হবে। গত ২০ বছরের মধ্যে বেঁচে থাকা সকল কাউন্সিলরদের ভোটে শীর্ষ নেতাকে বাছাই করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ দলের প্রধান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই বলেন, তার দলে নতুন নেতৃত্বের কথা। আমাদের বলয়ে সেটা নেই কেন? সৎজন চরিত্রের দুই একজন মির্জা ফখরুলেরা আছেন। তাদের কে সামনে রেখে বিএনপি পুনর্গঠন করার উদ্যোগে সকলকেই সামিল হতে হবে। আর আমিতো মনে করি যতক্ষণ পর্যন্ত জামায়াত ছাড়ার ব্যাপারটা নিশ্চিত না হচ্ছে সরকারকে আরো কঠোর হয়ে জামায়াতপন্থী বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্মূলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শেষ করে দিতে হবে তাদেরকে, যারা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদকে মুখে মুখে ধারণ করে দাঁত কেলাতে থাকে।

নাসিম বলেন, বিএনপির বর্তমান অকার্যকর রাজনীতিতে সারাদেশের নেতাকর্মীরা বলি হচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে সরকার একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আজকের বেগম জিয়া সরকারের সাথে আপোস করে নিজ গৃহে থাকার সুবিধা নিয়ে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দলের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে একজন তারেক রহমান সুদীর্ঘ সময় নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করে এখনো মানি মেকিং- এ আছেন এবং আরামে আছেন। তার মনোনয়ন বাণিজ্য চলছে। কারণ তিনি নিজেও জানেন যে, কোন পর্যায়ের নির্বাচনে জিতবার সুযোগ না থাকলেও প্রার্থী দাঁড় করিয়ে শত শত কোটি টাকা টেনে নিলে মন্দ কি ! নিজের মা জেলে বন্দী থাকবার সময়েও তার একটি বারের জন্য মনে হয়নি যে, আওয়ামী সরকারকে বলি, আমাকে বন্দী করুন কিন্তু মাকে ছেড়ে দিন।

‘বেগম জিয়া নতি স্বীকার করতে হবে এই মর্মে যে, আমি ( খালেদা জিয়া) দল ও দেশের জন্য নেতৃত্ব দেয়ার মত চরিত্র কখনই ছিলাম না। আমার পুত্র তারেক রহমান ওর বাবার মত হতে পারেনি। আমি জামায়াতের সাথে রাজনীতি করাটাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলাম।’

তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আগামী ২ সেপ্টেম্বরে জাতীয়তাবাদের ওপর, বিএনপির ওপর এমন একটি বিশ্বমানের প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে জাতিকে দেখিয়ে দেব, আপনারা কিভাবে এই দলের সাথে এক মিনিট থাকতে পারেন! থাকতে পারবেন না ! ‘মম অব দ্য ডন’- শীর্ষক চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করে বসে আছি। তার মনে রাখা উচিত ছিল, কামরুল হাসান নাসিম তো নেতা হতে চায় না। তিনি সংকটকালীন মুখপাত্র হয়ে দলকে সাজিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বুদ্ধি বৃত্তিক চ্যালেঞ্জ করার কার্যত এই দেশের এক মাত্র নেতৃস্থানীয় চরিত্র।

কিভাবে কাউন্সিল করা সম্ভব- এই প্রশ্নের জবাবে নাসিম বলেন, যেহেতু একজন বেগম জিয়া মুখে কিছু বলবার অবস্থায় নেই। তিনি এক প্রকার মুচলেকা দিয়ে রাজনীতি থেকে সরে গেছেন। কাজেই সম্ভব। কারণ তার পুত্র তারেক রহমান তো বাংলাদেশে বসবাস করে রাজনীতি করছেন না। এত বড় দলের এমন দুর্দশা দলের নেতা কর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। কাজেই কাউন্সিল করা যাবে। দলীয় বিপ্লব হবে। তবে এক বছর আগেও তা করা দুরহ ছিল।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার সাথে দলের জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের প্রায় সকলেই আছেন। কৌশল এবং অনিবার্য কারণে তাদের নাম প্রকাশ করতে যাব না। তারা বিপদে পড়তে পারেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তারেক রহমানের কাছে মুল দলটা থাকবে। আপনারা সাম্প্রতিক সময়ে মির্জা আব্বাসের বিষয়টি কি দেখেননি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *