স্কুল-কলেজ খুলছে কাল, স্বাস্থ্যবিধি মানায় জোর

করোনার কারণে দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকা সারা দেশের স্কুল-কলেজ আগামীকাল রবিবার থেকে খুলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ১১ দফা নির্দেশনা। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারবে, এ জন্য তাদের মধ্যে বইছে খুশির আমেজ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা জানান, স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের ৯৫ শতাংশই টিকা নিয়েছে। তবে কর্মচারীরা কিছুটা পিছিয়ে আছেন। তাঁদের টিকা নেওয়ার হার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ গড়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের ৯০ শতাংশই টিকা নিয়েছে। স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই শিক্ষক-কর্মচারীদের টিকা নেওয়ার তথ্য সংগ্রহ করেছে। এমনকি টিকা না নেওয়াদের বেশির ভাগই এরই মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

তবে টিকা নেওয়ার এসএমএস না আসায় অনেকেই টিকা নিতে পারছেন না। কোনো কোনো স্কুল কর্তৃপক্ষ টিকা না নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের স্কুলে আসতে নিষেধ করেছে। অবশ্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।

জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির অন্যতম সদস্য ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহিত কামাল বলেন, আমি শুরুতেই অভিভাবকদের দায়িত্বের কথা বলব। একটা বাচ্চা কিভাবে মাস্ক পরবে, কিভাবে হাত ধুতে হবে, সেগুলো শিখিয়ে দিতে হবে। যাদের সামর্থ্য আছে তারা স্যানিটাইজার ব্যবহার করবে। আর থার্মোমিটার দিয়ে স্কুল গেটে তাপমাত্রা মাপার কথা বলা হলেও তা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই গা গরম থাকলে অভিভাবকরাই তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর কঠোর মনিটর করবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। এরই মধ্যে তারা স্কুল-কলেজকে নির্দেশনা দিয়েছে। জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানতে ৯ দফা নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুন নাহার বলেন, আমাদের প্রস্তুতি মোটামুটি শেষ। কিন্তু বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় স্কুল খোলার আগ পর্যন্ত কোনো না কোনো কাজ থাকছেই। কালও আমাদের কিছু কাজ আছে। আমাদের শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৮০০ এর মতো।

এদিকে, সম্প্রতি বন্যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অনেক স্কুল। হাজার হাজার স্কুল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এখনো বন্যার ক্ষত অনেক স্কুলে। সব মিলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রামে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যলয় ভাঙনের কবলে। মাদারীপুরে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চলের প্রায় অর্ধশত বিদ্যালয়। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি ঢোকায় ক্লাস শুরু করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, বন্যায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তার অনেকটি থেকে পানি নেমে গেছে। তার পরও কিছু স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলো মেরামত করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *