বাংলাদেশের আশার আলো যে দুজন

আইপিএলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় নাম সাকিব আল হাসান। কিন্তু কয়েক বছর ধরে যে ফ্র্যাঞ্চাইজিতেই খেলেছেন, একাদশে নিয়মিত ছিলেন না তিনি।

তাই বলে সাকিব আইপিএলটাকে কাজে লাগান না, সেটি বলা যাবে না। এবার যাওয়ার আগেই যেমন বলেছেন, আইপিএলে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে তার একধরনের প্রস্তুতি হয়, না খেললে হয় আরেক রকম।

২০১৯ বিশ্বকাপের আগের আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলতে পারেননি সাকিব। কিন্তু অনুশীলন সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন পুরোপুরি। বিভিন্ন দলের ফিজিওদের সঙ্গে কথা বলে অন্য দেশের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে নিজের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন।

এর সুফল ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নিয়েছিল দুহাত ভরে। দোরগোড়ায় যখন আরেকটি বিশ্বকাপ, সাকিব এবারও কলকাতার হয়ে তেমন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। কিন্তু যখনই সুযোগ পেয়েছেন, আলো ছড়িয়েছেন। সেটা বল হাতে রান আটকানোর দিক দিয়েই হোক বা ইনিংসের শেষদিকে এসে স্কোরবোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রান যোগ করে।

শারজার মন্থর উইকেটে সুযোগ পেলেই সাকিব আটকে দিয়েছেন রানের গতি, এনে দিয়েছেন প্রয়োজনীয় ব্রেক থ্রু। বাংলাদেশি দর্শকেরা উৎফুল্ল হতে পারেন এই ভেবে যে এবারের বিশ্বকাপ তো এসব পিচেই হবে!

বিশ্বকাপের আগে আইপিএলে বাংলাদেশের আরেক প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমানের ম্যাচ প্রস্তুতিটা অবশ্য ভালোই হয়েছে। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ১৪ ম্যাচে নিয়েছেন ১৪ উইকেট। বিদেশি তারকাদের মধ্যে রশিদ খান, ক্রিস মরিস আর জেসন হোল্ডারের পর সবচেয়ে বেশি উইকেট বাংলাদেশের মোস্তাফিজেরই। বোলিং, ফিল্ডিং মিলিয়ে এই মৌসুমে রাজস্থানের অর্জনের তালিকা করলে এই বাঁহাতি পেসারের নামটা ওপরের দিকেই থাকবে। মোস্তাফিজের ওপর রাজস্থানের অধিনায়কের ভরসা ছিল অনেক, ইনিংসের যেকোনো কঠিন মুহূর্তে সমাধানের আশায় বল তুলে দিয়েছেন তার হাতে।

অথচ মরুর বুকে মোস্তাফিজ খেলতে গিয়েছেন এবারই প্রথম। সেখানকার কন্ডিশনে কীভাবে বল করতে হয়, কীভাবে বোলিংয়ে নিয়মিত বৈচিত্র্য আনতে হয়-মোস্তাফিজের বল করার ধরন দেখেই বোঝা গেছে, সেসব ছিল তার হাতের মুঠোয়।

ডেথ ওভারে মোস্তাফিজ ওভারপ্রতি গড়ে রান দেন (ইকোনমি রেট) ৮.৮১ করে, যা ম্যাচের ওই পর্যায়ে আইপিএলে সেরা ইকোনমি রেটগুলোর একটি। ডেথ ওভারে মোস্তাফিজের এ ইকোনমি রেট এ মুহূর্তে ভারতের যশপ্রীত বুমরার (৮.৮৭) চেয়েও কম।

বিদেশিদের মধ্যে ডেথ ওভারে মোস্তাফিজই সবচেয়ে বেশি ডট বল দিয়েছেন। চাপের মুহূর্তে সাকিবের মতো তিনিও যে স্নায়ু ঠান্ডা রাখতে পারেন বেশ, এসব পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। তাই বলাই যায় মধ্যপ্রাচ্যের কন্ডিশনে আশার আলো হয়ে জ্বলতে পারেন এ দুজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.