সাগরিকা টেস্টে তীব্র গরমে দর্শকদের সেবা করতেও ভুললেন না বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা, জয় করে নিলো কোটি ভক্তদের প্রাণ

তীব্র গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন। ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে মাঝের কয়েকদিন বৃষ্টির দেখা মিললেও আজ সারাদিনই ছিল প্রখর রোদ। এই গরমের মধ্যেই টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। এই ম্যাচ দিয়েই করোনা পরবর্তী সময়ে প্রথমবারের মতো পূর্ণ গ্যালারি ভর্তি দর্শক প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।

কিন্তু অতিরিক্ত গরমের কারণে বারবার পানি পানের বিরতি নিতে হয়েছে খেলোয়াড়দের। কিছুক্ষণ পরপরই পানির বোতল নিয়ে মাঠে ঢুকেছেন দুই দলের অতিরিক্ত খেলোয়াড়রা। মাঠের ক্রিকেটারদের জন্য চাওয়া মাত্রই ঠাণ্ডা পানির ব্যবস্থা থাকলেও, গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের জন্য নেই এ সুবিধা।

বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ের দিন পাঁচশর কাছাকাছি দর্শক সাগরিকার এই মাঠে বসে সরাসরি খেলা দেখেছেন। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন ছাউনিবিহীন পশ্চিম গ্যালারিতে। গরমের কারণে তাদেরও হয়েছে হাসফাঁশ অবস্থা। সেখানে তাদের খানিক স্বস্তি এনে দিয়েছেন স্বাগতিক ক্রিকেটাররা।

মধ্যাহ্ন বিরতির পর দ্বিতীয় সেশনের খেলা শুরু হলে সীমানা দড়িতে তামিম ইকবালকে পানি পান করাতে এসেছিলেন একাদশের বাইরে থাকা রেজাউর রহমান রাজা ও শহিদুল ইসলাম।

তখন গ্যালারির দর্শকরাও পানি চেয়ে বসেন রাজা ও শহিদুলের কাছে। সেই আবদার বা চাওয়া ফেলতে পারেননি শহিদুল। নিজের হাতে থাকা কয়েকটি ঠাণ্ডা পানির বোতল তিনি ছুড়ে মারেন গ্যালারির দর্শকদের জন্য। সেই পানি নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন দর্শকরা।

শহিদুল-রাজাকে ধন্যবাদ জানাতেও ভোলেননি তারা। মাঠে বাংলাদেশের খেলার বাইরেও এটি ছিল দিনের দারুণ সুন্দর একটি দৃশ্য।

উল্লেখ্য, রোববার দিনে চট্টগ্রামের তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে সেটি গায়ে অনুভূত হয়েছে ৩৭ ডিগ্রিরও বেশি। এই তীব্র গরমে পুরো ৯০ ওভারের খেলাই মাঠে গড়িয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার প্রথম টেস্টের প্রথম দিন।

বারবার পানি পানের বিরতি নিতে হয়েছে, পানিশূন্যতায় ক্র্যাম্পও হয়েছে খেলোয়াড়দের। তাই ৯০ ওভার শেষ করতে আজ সময় লেগেছে ২৫ মিনিট বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.