নেতৃত্ব নিয়ে ভেবেচিন্তে এগোচ্ছে বিসিবি বস পাপন

এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় আসর সামনে রেখে নেতৃত্বের প্রশ্নে এখনো ধোঁয়াশায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ফর্ম ভাবাচ্ছে বিসিবিকে।

চলমান জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টোয়েন্টি দল নিয়ে বড় জুয়া খেলেছে বিসিবি। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের বড় তারকাদের ছাড়া প্রথমবার টি-টোয়েন্টি খেলছে টাইগাররা। এ সিরিজ থেকে বেরিয়ে আসবে আগামীর তারকা এমনটাই আশা বোর্ডের।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের ঠিক আগে পরিবর্তন এসেছিল টাইগারদের টেস্ট একাদশে। অফফর্ম অধিনায়ক মুমিনুল হককে সরিয়ে অধিনায়কত্ব দেওয়া হয় সাকিব আল হাসানকে। ঠিক পরের সফরে ফের পরিবর্তনের ছোঁয়া দলে। তবে এবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে।

ফর্মের সঙ্গে লড়তে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে বিশ্রাম দিয়ে এই সিরিজে অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়েছে উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানকে। যদিও বলা হচ্ছে, এই এক সিরিজের জন্যই বদল আনা হয়েছে অধিনায়কত্বে, তবে জোর গুঞ্জন, অধিনায়কত্বের ব্যাটনটা ফের রিয়াদের হাতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

সামনেই কড়া নাড়ছে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের আসর। ঠিক তার আগে নেতৃত্বের পরিবর্তন কতটা যুক্তিযুক্ত সেই আলোচনা ছাপিয়ে বরং অধিনায়ক বদলের দিকেই জনমত ভারী। এর পেছনের কারণ অবশ্য রিয়াদ নিজেই। ম্যাচের পর ম্যাচ দলকে ব্যাট বা বল হাতে নেতৃত্ব দিতে পারছেন না সাইলেন্ট কিলার।

তার উপরে বাজে ফিল্ডিং আর রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে ক্লান্ত রিয়াদের দুর্বলতা তো আছেই। টি-টোয়েন্টির মতো প্রতিযোগিতায় ঠাঁসা ক্রিকেটে দলে যা ফেলে নেতিবাচক প্রভাব। তবে এক সিরিজের অধিনায়ক সোহানকে নিয়েও প্রশ্ন আছে। ওয়ানডে ও

টেস্টে ধীরে ধীরে আস্থার জায়গাটা করে নিতে পারলেও টি-টোয়েন্টিতে সোহানের পারফরম্যান্স তথৈবচ। ৩৪ টি-টোয়েন্টি খেলার পরও তার গড় মাত্র ১৪.৯০। স্ট্রাইকরেট ১১৬.৭৯, যা মোটেই টি টোয়েন্টি সুলভ নয়। তাই অধিনায়ক নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না মোটেই।

অবশ্য বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের দাবি, অধিনায়ক হিসেবে রিয়াদকে নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই বোর্ডের। শুধুমাত্র ব্যাটিং এর উপর চাপ কমাতেই তাকে এই সিরিজে দেওয়া হয়েছে বিশ্রাম। রোববার মিরপুরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন,

‘মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে আমার কখনো কোন কমেন্ট নেই…মানে বিরুদ্ধে কোন কমেন্ট নেই। ও রান পাচ্ছে না। আমরা মুমিনুলকেও ড্রপ করেছি কারণ প্রেশার দিতে চাই না, কারণ এখন দুইটা বড় ইভেন্ট সামনে; একটা এশিয়া কাপ ও আরেকটা বিশ্বকাপ। এখন সামনের খেলাগুলোতে বোঝা যাবে কে কী হবে। তবে প্রেশারটা কমানো ও ফিউচার দেখছি। ‘

তবে টি-টোয়েন্টিতে কোন ধরনের পরিবর্তন আসবে কি-না তা নির্ভর করছে সামনের দিনে কীভাবে পারফর্ম করছে খেলোয়াড়রা তার ওপরে। এমনটাই জানালেন পাপন। টেস্টের মতোই টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব সাকিব আল হাসানের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু তা নিয়েও পরিষ্কার করে কিছু বলেননি বিসিবি সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেন, ক্যাপ্টেন কাকে করা হবে এই সিরিজে, প্রথম নামটাই আসছে লিটনের, মানে আপনি যদি ন্যাচারালই চিন্তা করেন। মেহেদী হাসান মিরাজের নামও আসছে, কারণ এরা একটু পুরনো। কিন্তু দেখেন, দেওয়া হয়েছে কী? -সোহান। এই প্রত্যেকটা জিনিসই অনেক ভেবেচিন্তে করা হয়েছে।

একটু লঙ টার্মের কথা চিন্তা করে করা হচ্ছে এবং সব ফরম্যাটের কথা চিন্তা করে করা হচ্ছে। সো একটু ভেবেচিন্তে আগাচ্ছে, এখনই কিছু ফাইনাল হয়নি। প্লেয়ারদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে সব কিছু।’ এদিকে, বিসিবি সভাপতির চাওয়া,

এই সিরিজ থেকে অন্তত দটি-তিনজন নতুন মুখ উঠে আসুক যাদের দলে নিয়মিত খেলানো যায়। তবে একই সঙ্গে নিজের সন্দেহের কথাও জানালেন। তিনি বলেন, ‘এটাই চাওয়া যে, এর মধ্য থেকে অন্তত নতুন দুটা-তিনটা ছেলে বেরিয়ে আসুক যাদের আমরা খেলাতে পারি। এখন হয়েছে কী,

খেলাচ্ছি, কিন্তু আমরা নিজেরাই কনফিডেন্ট না। আসলে যার বদলে খেলাচ্ছি সে কি আসলে তার চেয়ে ভালো কী?-এই জিনিসটা বোঝার জন্যও তো একটা কনফিডেন্স লাগবে। আর এই প্রমাণটা ওদেরই করতে হবে, যারা সুযোগ পাচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *